1. admin@dailyteligraf.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

কিছু ফুল অঙ্কুরেই ঝড়ে যায়

অনলাইন ডেস্ক
  • সময় : রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১
  • ৫০ বার পঠিত

কিছু কিছু ফুল অঙ্কুরেই ঝড়ে যায়।আবার কিছু কিছু ফুল বহু ঝড়ঝাপটা সহ্য করেও নিজেকে যথা স্থানে টিকেয়ে রাখে। আবার এক প্রকার মানুষ আছে যারা চোখের সামনে ফুল দেখলেই তাকে ছেড়ার চেষ্টা করে বা নষ্ট করার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছু গুনি মানুষ আছে যারা ফুলের সত্যিকার মর্ম বুঝেন তারা ফুলকে কখনোই ছেড়ার চেষ্টা বা বিনষ্ট করার চেষ্টা করেন না। বরং তাকে কিভাবে পরিচর্যা করলে আরো ভালো দেখা যাবে সেই দিক লক্ষ্য করে সঠিক পরিচর্যা করেন। ঠিক মানুষের ক্ষেত্রেও তাই। আমাদের সমাজে এমনও কিছু প্রতিভাবান মানুষ আছে যারা সঠিক পরিচর্যার অভাবে তাদের প্রতিভা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের এমন প্রতিভাবান মানুষের পাশে দাড়িয়ে তাদের প্রতিভা রক্ষার্থে একটু হলেও সাহায্য করা উচিত। আপনার একটু সাহায্যের দ্বারা যদি কোনো প্রতিভান তার প্রতিভাকে রক্ষা করতে পারে বা সঠিক কাজে লাগাতে পারে, তাহলে আপনার চেয়ে মহৎ ব্যক্তি আর কেও আছে বলে মনে হয় না। তেমনি এক প্রতিভাবান নারী ফুটবল খেলোয়াড় এর কথা নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব। তারও এমন এক পরিস্থিতি, যে কিনা টাকার আভাবে তার প্রতিভা নষ্ট করে ফেলতে যাচ্ছে।

“”মূলাংশঃ- ইতি টাংগাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার দুপুটিয়া গ্রামের একজন সম্ভাবনাময়ী প্রতিভাবান খেলোয়াড়। সে বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৮ থেকে উঠে এসেছে। গত বঙ্গমাতা অ-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্ট এ সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসাবে তার যাদুকরী খেলার মাধ্যমে সর্বোচচ গোলদাতা হিসাবে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।””

এ পর্যায়ে আসার পেছনে—-
২০১৮ সালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের ফুটবল টুর্ণামেন্ট নাগরপুরের হয়ে মাঠে নেমেছে পাকুটিয়া ধুপটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিপক্ষ দলকে একাই দুমড়ে মুচরে দিচ্ছে নাগরপুর দলের ১০ নম্বর জার্সি পরিহিত খেলোয়ার “”ইতি””। ইতি পরবর্তীতে প্রতিটি খেলায় দারুণ নৈপূন্য প্রদর্শন করেছে। মোনালিসা ফুটবল একাডেমির পরিচালক বললেন স্যার আপনার ১০ নম্বর পরিহিত খেলোয়ারটিকে আমাকে দিয়ে দেন। পাকুটিয়া ধুপটিয়ার তৎকালীন প্রধান শিক্ষকে ঘটনাটি বলা হলো। প্রধান শিক্ষক বললেন ওর বাবা ( ভ্যান চালক) মায়ের সাথে কথা বলে জানাবো। পরিশেষে ইতির বাবাকে মোটিভেশনের মাধ্যমে মুন্নি মোনালিসা একাডেমীতে ডেকে আনা হলো। প্রধান শিক্ষক সহ মুন্নীর বিভিন্ন জায়গায় হতে আর্থিক সহযোগিতায় ফুটবলে প্রশিক্ষণ নিতে লাগলো ইতি। ২০১৯ সালের বিভাগীয় পর্যায়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ খেলায় অনুর্ধ্ব-১৭ তে সেরা গোলদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয় ইতি।
বর্তমানে ইতি ২০১৯ এর শেষ ভাগে বিকেএসপি তে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু বিধি বিধান ভ্যান চালকের মেয়ের পক্ষে কী ৪২০০০ টাকা ভর্তি সহ আনুষঙ্গিক খরচ মেটানো সম্ভব? টাকার অভাবে কি তার স্বপ্ন পূরণ হবে না?
ইতি একদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলবে, নাগরপুরের মেয়ে হিসেবে আপনাদের মুখ উজ্জ্বল করবে এটা ধ্রুব সত্য বলে মনে করা যায়। কিন্তু তার চলার পথের এই বাঁধা বিপত্তিতে কি আমাদের কিছুই করার নেই? তাকে কী আমরা একটু আর্থিক সাহায্য করে হলেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিতে পারি না? সে দেশের একটা অমূল্য সম্পদ। এই অমূল্য সম্পদ আমরা এত সহজেই কী নষ্ট হতে দিতে পারি? .. আমরা বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা ব্যয় করি। তাহলে আমরা বিনা প্রয়োজনে যদি এতো অর্থ নষ্ট করতে পারলে কী এই মহৎ কাজে কিছু অার্থিক সহায়তা করে মহৎ মানুষের খাতায় নামটা লিখাতে পারব না। আসুন আমরা “”ইতিকে”” সহযোগিতা করে তার তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়ক ভুমিকা পালন করি।

এইসকে / এস

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© সর্স্ববত্ব সংরক্ষিত © ২০২০ ডেইলি হক কথা
Theme Customized BY Shakil IT